বাংলাদেশ ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাধ্যতামূলক অবসরে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩ Time View
চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তর বা গ্রেডে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গত ২৩ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিএসইসির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম। এ ছাড়া উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান; সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ রয়েছেন এ তালিকায়।
বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন- সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম ও মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী।
বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে। জানা গেছে, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ওই দিন বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় একটি মামলা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলাও হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএসইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপর একজন কর্মকর্তা আগে অন্য একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় কমিশনের মূল ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও লিফট বন্ধ করে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী এসে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর কয়েক দিন বিএসইসিতে অচলাবস্থা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
Tag :
About Author Information

বাধ্যতামূলক অবসরে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা

Update Time : ১২:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তর বা গ্রেডে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গত ২৩ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিএসইসির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম। এ ছাড়া উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসান; সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষ রয়েছেন এ তালিকায়।
বেতন অবনমনের শাস্তি পেয়েছেন- সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম ও মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী।
বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে। জানা গেছে, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ওই দিন বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় একটি মামলা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলাও হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএসইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপর একজন কর্মকর্তা আগে অন্য একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় কমিশনের মূল ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও লিফট বন্ধ করে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী এসে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর কয়েক দিন বিএসইসিতে অচলাবস্থা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।