বাংলাদেশ ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিবাসন আইন কঠোর করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৯৭ Time View

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বুধবার এমন একটি কঠোর অভিবাসন নীতির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের অবৈধভাবে আগত অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষমতা আরও বাড়বে।

পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘ডিপোর্টেশন সেন্টার’ বা নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগও তৈরি হবে।

স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত এই ভোটটি এমন একটি সংস্কারের শেষ ধাপগুলোর একটি,  যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সদস্য দেশগুলোর দীর্ঘ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া পেরিয়ে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, ‘এই আইন স্পষ্ট করে সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছে পাচারকারীরা নয়, বরং আমরাই সিদ্ধান্ত নেব ইউরোপীয় ইউনিয়নে কে থাকতে পারবে ও কাকে চলে যেতে হবে।’

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে থাকা এই আইনে এমন বিধানও রাখা হয়েছে, যাতে ইইউ’র বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা বহিষ্কার কেন্দ্র স্থাপন করা যায়।

যাদের ইউরোপে থাকার অধিকার নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই এমন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ একাধিক দেশ এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সম্প্রতি এই ধারণাটি আরও সমর্থন পায়, যখন ইইউভুক্ত দেশগুলোর একটি বড় অংশ এসব কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ইউরোপীয় অর্থায়নের উদ্যোগে সম্মত হয়। তবে ফ্রান্স ও স্পেন এতে বিরোধিতা করেছে।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম চুক্তি সম্পন্ন করা, যাতে ২০২৭ সাল থেকে এগুলো কার্যকরভাবে চালু করা যায়।’

ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে জনমত কঠোর হওয়ায় এবং ডানপন্থী দলগুলোর উত্থানের কারণে সরকারগুলোও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

২০২৫ সালে অভিবাসীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও, এখন ব্রাসেলসের মূল মনোযোগ গেছে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার উন্নতির দিকে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছে।

২০২৫ সালে অভিবাসীদের আগমন কমে যাওয়ায়, এখন ব্রাসেলসের মূল মনোযোগ গেছে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার উন্নতির দিকে।

Tag :
About Author Information

অভিবাসন আইন কঠোর করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

Update Time : ০৪:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বুধবার এমন একটি কঠোর অভিবাসন নীতির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের অবৈধভাবে আগত অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষমতা আরও বাড়বে।

পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘ডিপোর্টেশন সেন্টার’ বা নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগও তৈরি হবে।

স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত এই ভোটটি এমন একটি সংস্কারের শেষ ধাপগুলোর একটি,  যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সদস্য দেশগুলোর দীর্ঘ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া পেরিয়ে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, ‘এই আইন স্পষ্ট করে সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছে পাচারকারীরা নয়, বরং আমরাই সিদ্ধান্ত নেব ইউরোপীয় ইউনিয়নে কে থাকতে পারবে ও কাকে চলে যেতে হবে।’

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে থাকা এই আইনে এমন বিধানও রাখা হয়েছে, যাতে ইইউ’র বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা বহিষ্কার কেন্দ্র স্থাপন করা যায়।

যাদের ইউরোপে থাকার অধিকার নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই এমন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ একাধিক দেশ এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সম্প্রতি এই ধারণাটি আরও সমর্থন পায়, যখন ইইউভুক্ত দেশগুলোর একটি বড় অংশ এসব কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ইউরোপীয় অর্থায়নের উদ্যোগে সম্মত হয়। তবে ফ্রান্স ও স্পেন এতে বিরোধিতা করেছে।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম চুক্তি সম্পন্ন করা, যাতে ২০২৭ সাল থেকে এগুলো কার্যকরভাবে চালু করা যায়।’

ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে জনমত কঠোর হওয়ায় এবং ডানপন্থী দলগুলোর উত্থানের কারণে সরকারগুলোও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

২০২৫ সালে অভিবাসীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও, এখন ব্রাসেলসের মূল মনোযোগ গেছে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার উন্নতির দিকে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছে।

২০২৫ সালে অভিবাসীদের আগমন কমে যাওয়ায়, এখন ব্রাসেলসের মূল মনোযোগ গেছে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার উন্নতির দিকে।