বাংলাদেশ ০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলায় নিহত ২০ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পারমানবিক অস্ত্র প্রশ্নে নমনীয় ইরান বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব শক্তিশালী তুষারঝড়ে নিউইয়র্কে নগরজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ভারতীয়দের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করেছে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার : মাহদী আমিন মুকসুদপুরে প্রায় ১৫০ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করল চরপ্রসন্নদী সমাজকল্যাণ সংস্থা 

বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩১ Time View

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ‘পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের’ মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালীরাই অনেক সময় এ প্রবণতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর  জানিয়েছে।

জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএন হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল) উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আইনের শাসনকে পেশিশক্তির শাসন পরাস্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ ছায়া থেকে বা হঠাৎ করে আসছে না। এটি সবার চোখের সামনেই ঘটছে। আর প্রায়ই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাই, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী।’

মহাসচিব নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, চার বছরের সহিংসতায় সেখানে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘রক্তপাত বন্ধ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।’

এছাড়া তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের’ কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা ওই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বর্তমান গতিপথ ‘স্পষ্ট, পরিষ্কার ও উদ্দেশ্যমূলক— দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে প্রকাশ্যে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

এ সময় গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি ঘটতে দিতে পারে না।’
—ভোগান্তি ‘উপেক্ষিত’ হচ্ছে—

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাই নয়, বিশ্বজুড়েই অধিকার ক্ষয় হচ্ছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে, কৌশলগতভাবে এবং কখনও কখনও গর্বের সঙ্গেই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে ব্যাপক মানবিক ভোগান্তিকে অজুহাতে ঢেকে ফেলা হয়। মানুষকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে তুচ্ছ বাধা হিসেবে দেখা হয়।
মানবাধিকার ভেঙে পড়লে, অন্য সব কিছুই ভেঙে পড়বে বলে তিনি এ সময় সতর্ক করেন।

গুতেরেস বলেন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের সংকট প্রতিটি বৈশ্বিক ভাঙনকে প্রতিফলিত ও তীব্রতর করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মানবিক চাহিদা বাড়ছে, অথচ তহবিল কমছে এবং একই সময়ে বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। দেশগুলো ঋণ ও হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অধিকার দমন করছে, বৈষম্য বাড়াচ্ছে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অনলাইন ও অফলাইনে নতুন ধরনের বৈষম্যের মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ, তারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।’

এ প্রবণতা ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘ প্রধান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দলিলগুলো কোনো ‘পছন্দমতো বেছে নেওয়ার মেনু’ নয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘নেতারা পছন্দের অংশটা নেবেন আর বাকিটা উপেক্ষা করবেন— এটি চলতে পারে না।’

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলায় নিহত ২০

বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

Update Time : ০১:১২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ‘পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের’ মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালীরাই অনেক সময় এ প্রবণতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর  জানিয়েছে।

জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএন হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল) উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আইনের শাসনকে পেশিশক্তির শাসন পরাস্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ ছায়া থেকে বা হঠাৎ করে আসছে না। এটি সবার চোখের সামনেই ঘটছে। আর প্রায়ই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাই, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী।’

মহাসচিব নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, চার বছরের সহিংসতায় সেখানে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘রক্তপাত বন্ধ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।’

এছাড়া তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের’ কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা ওই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বর্তমান গতিপথ ‘স্পষ্ট, পরিষ্কার ও উদ্দেশ্যমূলক— দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে প্রকাশ্যে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

এ সময় গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি ঘটতে দিতে পারে না।’
—ভোগান্তি ‘উপেক্ষিত’ হচ্ছে—

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাই নয়, বিশ্বজুড়েই অধিকার ক্ষয় হচ্ছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে, কৌশলগতভাবে এবং কখনও কখনও গর্বের সঙ্গেই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে ব্যাপক মানবিক ভোগান্তিকে অজুহাতে ঢেকে ফেলা হয়। মানুষকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে তুচ্ছ বাধা হিসেবে দেখা হয়।
মানবাধিকার ভেঙে পড়লে, অন্য সব কিছুই ভেঙে পড়বে বলে তিনি এ সময় সতর্ক করেন।

গুতেরেস বলেন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের সংকট প্রতিটি বৈশ্বিক ভাঙনকে প্রতিফলিত ও তীব্রতর করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মানবিক চাহিদা বাড়ছে, অথচ তহবিল কমছে এবং একই সময়ে বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। দেশগুলো ঋণ ও হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অধিকার দমন করছে, বৈষম্য বাড়াচ্ছে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অনলাইন ও অফলাইনে নতুন ধরনের বৈষম্যের মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ, তারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।’

এ প্রবণতা ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘ প্রধান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দলিলগুলো কোনো ‘পছন্দমতো বেছে নেওয়ার মেনু’ নয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘নেতারা পছন্দের অংশটা নেবেন আর বাকিটা উপেক্ষা করবেন— এটি চলতে পারে না।’