বাংলাদেশ ০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৭১ Time View

দার করতে ইরানে গতকাল শুক্রবার নতুন করে বিক্ষোভে নেমেছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে, কর্তৃপক্ষ দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছে এবং চলমান বিক্ষোভে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরানের বিভিন্ন শহরে ১৩ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলন শুরু হয় জীবিকা নির্বাহের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে। বর্তমানে এই বিক্ষোভে ইরান শাসনকারী ধর্মীয় ব্যবস্থার অবসানের দাবিও উঠছে, যা পশ্চিমাপন্থী শাহকে উৎখাত করে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে কার্যকর হয়।

এএফপি’র যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের সাদাতাবাদ জেলায় বিক্ষোভকারীরা সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল, যার মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছিল ‘খামেনির মৃত্যু হোক’ এবং বিক্ষোভকারীরা গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছিল।’

অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবিগুলোতে তেহরানের অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের বিক্ষোভ দেখা গেছে। এদিকে, ইরানের বাইরে অবস্থিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পূর্বের শহর মাশহাদ, উত্তরের তাবরিজ এবং পবিত্র শহর কুমে নতুন বিক্ষোভে বড় সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করছে।
নারীর পোশাকের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর ২০২২-২০২৩ সালের প্রতিবাদ আন্দোলনের পর গত বৃহস্পতিবার ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে যে ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিক্ষোভ চলাকালে জনগণের যোগাযোগের অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং সহিংসতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ করে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করছে, যার উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক নৃশংসতা আড়াল করা।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু

Update Time : ০৯:৪৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

দার করতে ইরানে গতকাল শুক্রবার নতুন করে বিক্ষোভে নেমেছে সাধারণ মানুষ।

এদিকে, কর্তৃপক্ষ দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছে এবং চলমান বিক্ষোভে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরানের বিভিন্ন শহরে ১৩ দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলন শুরু হয় জীবিকা নির্বাহের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে। বর্তমানে এই বিক্ষোভে ইরান শাসনকারী ধর্মীয় ব্যবস্থার অবসানের দাবিও উঠছে, যা পশ্চিমাপন্থী শাহকে উৎখাত করে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে কার্যকর হয়।

এএফপি’র যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের সাদাতাবাদ জেলায় বিক্ষোভকারীরা সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল, যার মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছিল ‘খামেনির মৃত্যু হোক’ এবং বিক্ষোভকারীরা গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছিল।’

অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবিগুলোতে তেহরানের অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের বিক্ষোভ দেখা গেছে। এদিকে, ইরানের বাইরে অবস্থিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পূর্বের শহর মাশহাদ, উত্তরের তাবরিজ এবং পবিত্র শহর কুমে নতুন বিক্ষোভে বড় সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করছে।
নারীর পোশাকের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর ২০২২-২০২৩ সালের প্রতিবাদ আন্দোলনের পর গত বৃহস্পতিবার ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে যে ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিক্ষোভ চলাকালে জনগণের যোগাযোগের অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং সহিংসতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ করে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করছে, যার উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক নৃশংসতা আড়াল করা।